
‘অসহায়’ সেজে আদালতের জায়গা বরাদ্দ নিলেন অর্ধশত কোটি টাকার মালিক!
সাংবাদিক সোহেল খান (ব্রাহ্মণবাড়িয়া)প্রতিনিধি;
৫টি বিলাসবহুল বাড়ি ও বিশাল ফার্নিচারের কারখানা এবং শোরুমের মালিক অজিত সূত্রধরের কাণ্ডে নবীনগরে চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে।
নিজে বিশাল কাঠের ফার্নিচার কারখানার মালিক, রয়েছে জাঁকজমকপূর্ণ শোরুম এবং অন্তত পাঁচটি বিলাসবহুল ব্যক্তিগত বাড়ি। এলাকাবাসীর দাবি— সব মিলিয়ে প্রায় অর্ধশত কোটি টাকার স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তির মালিক তিনি। কিন্তু সরকারি সুযোগ-সুবিধা আর আদালতের মূল্যবান জায়গা কুক্ষিগত করতে নিজেকে সাজিয়েছেন চরম ‘দরিদ্র ও অসহায়’! চাঞ্চল্যকর ও অবিশ্বাস্য এই ঘটনাটি ঘটেছে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার নবীনগর উপজেলায়।
অনুসন্ধানে জানা যায়, নবীনগর পৌরসভার ১ নং ওয়ার্ডের আলমনগর দক্ষিণপাড়ার মৃত ঠাকুর চান সূত্রধরের ছেলে অজিত সূত্রধর নিজেকে চরম অসহায় ও দরিদ্র সাজিয়ে সরকারি জায়গা বরাদ্দ পেতে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা জজ বরাবর আবেদন জানান। আবেদনে তিনি উল্লেখ করেন, চরম অর্থকষ্টে পরিবার-পরিজন নিয়ে অতি কষ্টে জীবনযাপন করছেন এবং জীবিকা নির্বাহের জন্য আদালতের পরিত্যক্ত জায়গায় একটি ছোট অস্থায়ী দোকান নির্মাণ করতে চান। তার এই ‘কান্নাভেজা’ আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে জেলা জজ আদালত তার প্রতি সদয় হয়ে বার্ষিক মাত্র ৬,০০০ টাকা নামমাত্র সেলামিতে দোকান করার অনুমতি প্রদান করেন।
গত ২৮/০৬/২০২৬ তারিখে জেলা জজ কার্যালয়ের নেজারত শাখা থেকে ইস্যুকৃত ‘আদেশ নং- ০৭’ অনুযায়ী, নবীনগর সিনিয়র সিভিল জজ (চৌকি) আদালতের পূর্ব-উত্তর কোণায় বটগাছের পাশে ১২ ফুট দীর্ঘ এবং ১০ ফুট প্রস্থের একটি মূল্যবান খালি জায়গা ২০২৬-২০২৭ অর্থ বছরের জন্য সম্পূর্ণ অস্থায়ী ভিত্তিতে তাকে বরাদ্দ দেওয়া হয়। যার স্মারক নং- এন ৩০৮(১), এবং এতে সংশ্লিষ্ট ভারপ্রাপ্ত নেজারত বিচারকের স্বাক্ষর রয়েছে ১২/০৭/২০২৬ তারিখে।
তবে বরাদ্দ পাওয়ার খবর ছড়িয়ে পড়তেই স্থানীয়দের মাঝে চরম ক্ষোভ ও বিস্ময়ের সৃষ্টি হয়েছে। সরেজমিনে আলমনগর এলাকায় গিয়ে স্থানীয় বাসিন্দাদের সাথে কথা বলে জানা যায় এক ভিন্ন ও চরম বৈপরীত্যময় চিত্র। এলাকাবাসী অত্যন্ত ক্ষোভের সাথে জানান, অজিত সূত্রধরের মালিকানাধীন বিশাল আকারের কাঠের ফার্নিচারের কারখানা রয়েছে। শুধু তাই নয়, এলাকায় তার সুপরিচিত ফার্নিচার শোরুম ছাড়াও অন্তত ৫টি নিজস্ব পাকা বাড়ি রয়েছে। এলাকায় তিনি কোনোভাবেই দরিদ্র তো ননই, বরং অন্যতম শীর্ষ সম্পদশালী ও প্রভাবশালী ব্যবসায়ী হিসেবে পরিচিত।
স্থানীয় একাধিক বাসিন্দা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, “যেখানে প্রকৃত ভূমিহীন এবং চরম অবহেলিত ও দরিদ্র মানুষরা এক টুকরো জায়গার জন্য দ্বারে দ্বারে ঘুরেও মাথা গোঁজার ঠাঁই পায় না, সেখানে একজন কোটিপতি ব্যবসায়ী কীভাবে নিজেকে অসহায় সাজিয়ে আদালতের খাস জায়গা বরাদ্দ পেয়ে যান, তা আমাদের বোধগম্য নয়। এটি প্রকৃত অসহায় মানুষের অধিকার হরণ করার শামিল।”
সচেতন মহলের অভিযোগ, সঠিক তদন্ত না করে কেবল আবেদনের ওপর ভিত্তি করে এই বরাদ্দ দেওয়ায় প্রকৃত দরিদ্ররা বঞ্চিত হচ্ছেন। একই সাথে কোটিপতি ব্যবসায়ীর এমন জালিয়াতিপূর্ণ ও প্রতারণামূলক আবেদনের বিষয়টি খতিয়ে দেখে দ্রুত আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করার পাশাপাশি অবিলম্বে এই বরাদ্দ বাতিলের জোর দাবি জানিয়েছেন নবীনগরের সর্বস্তরের নাগরিক সমাজ।
প্রেরক-মো সফর মিয়া, নবীনগর(ব্রাহ্মণবাড়িয়া)প্রতিনিধি;
মোবাইল -০১৯১৩৬১৬১৬১.

সোহেল খান 












